শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
দৈনিক দিনের সময় অনলাইন ডেস্ক:বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বের করে দিতে বলেছেন শিব সেনার এমপি সঞ্জয় রাউত। হাসিনাকে বের করে দেওয়ার পর ভারত থেকে সব বাংলাদেশিকে বের করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা সাঈফ আলি খানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় এক বাংলাদেশির সংশ্লিষ্টতা প্রকাশের পর এসব দাবি জানান তিনি। সঞ্জয় রাউত বলেন, সব বাংলাদেশিকে অবশ্যই ফেরত পাঠাতে হবে এবং এর শুরুটা করতে হবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে পালিয়ে ভারত যান হাসিনা। সেদিন থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ভারত সরকারের দেওয়া আশ্রয়কেন্দ্রে বাস করছেন। হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে এক ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলেও সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি ভারত। এমনকি শেখ হাসিনা কোন মর্যাদায় ভারতে রয়েছেন তাও এখন পর্যন্ত খোলাসা করেনি দেশটির সরকার।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যখন টালমাটাল অবস্থায় ঠিক সেসময় জানা গেল, ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা সাঈফ আলি খানকে ছুরিকাঘাত করা ব্যক্তি বাংলাদেশি। গত বুধবার গভীর রাতে এই বলিউড তারকার বাড়িতে ঢুকে পড়েন এক ব্যক্তি। তিনি সাঈফকে উপর্যুপরি ছয়টি ছুরিকাঘাত করেন।
মহারাষ্ট্র পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীর নাম মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ (৩০)। তার কাছে ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি পাঁচ-ছয় মাস আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং নাম বদলে নানান জায়গায় কাজের সন্ধান করছিলেন।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করে সোমবার সঞ্জয় রাউত সাংবাদিকদের বলেন, হামলাকারী যে বাংলাদেশি, এটা কে বলেছে? বিজেপি? তারা দাবি করছে সাঈফ আলি খানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ? একজন অভিনেতার ওপর হামলা হয়েছে এবং মানুষের অবশ্যই সত্যটা জানা উচিত। যদি হামলাকারী বাংলাদেশি হয় তা হলে এর জন্য দায়ী কেন্দ্র সরকার। এটা অমিত শাহের ব্যর্থতা এবং এ জন্য তার পদত্যাগ করা উচিত।
সব বাংলাদেশিকে অবশ্যই ভারত থেকে বের করে দেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, এর শুরুটা হওয়া উচিত হাসিনার মাধ্যমে। যাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তারা (বিজেপি) মুম্বাই মিউনিসিপ্যালটি নির্বাচন সামনে রেখে ভয়ের রাজত্ব তৈরি করতে চায়। আমরা যখনই সংসদে বাংলাদেশের বিপক্ষে কিছু বলতে চাই, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অজুহাতে বিজেপি আমাদের চুপ করিয়ে দেয়।